অস্পর্শের আকুতি। সোহেল রানা।
যদি হতাম তোমার বারান্দার টবে এক নিষ্পাপ কিশলয়,
প্রতি প্রভাতে আর সায়াহ্নে পেতাম তোমার স্নেহমাখা পরশ।
আমার ধূসর মূলে জল ঢেলে তুমি যে প্রাণ দিতে,
মুগ্ধ বিস্ময়ে দেখতাম সে দৃশ্য, শুক্ল মেঘের মতো মন ভরে উঠত।
তোমার কেশের সুবাস বারে বারে এসে ছুঁয়ে যেত আমায়,
আমিও অম্লজান হয়ে মিশে যেতাম তোমারই নিশ্বাসে।
কিন্তু হায়! আমি যে মর্ত্যের মানুষ,
ইচ্ছা থাকলেও ছুঁতে পারো না তুমি আমার সত্তা।
তোমার সুরভি আমার নাসিকাতে এসে মেশে না,
আর আমিও জীবনবায়ু হয়ে লীন হতে পারি না তোমায়।
অলস দ্বিপ্রহরে, ক্লান্ত দেহ এলিয়ে, বসো না তুমি আমার শ্যামলিম ছায়ায়।
আমি যে মর্ত্যের মানুষ, তাই তোমার আর আমার মাঝে বিস্তর ব্যবধান।
যদি আমি সেই বৃক্ষ হতাম—
যার পাতায় খেলে যেত তোমার আঙুলের বাতাস,
যার ছায়ায় বসে তুমি হারিয়ে যেতে দুপুরের অলসতায়।
তবে কোনো বন্ধন ছাড়াই, নির্ভার হয়ে
আমি মিশে যেতাম তোমার প্রতিটি নিঃশ্বাসে।
২৪ শে জুন ২০২৫
সোহরাওয়ার্দী হল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
Comments
Post a Comment