Posts

অস্পর্শের আকুতি। সোহেল রানা।

যদি হতাম তোমার বারান্দার টবে এক নিষ্পাপ কিশলয়, প্রতি প্রভাতে আর সায়াহ্নে পেতাম তোমার স্নেহমাখা পরশ। আমার ধূসর মূলে জল ঢেলে তুমি যে প্রাণ দিতে, মুগ্ধ বিস্ময়ে দেখতাম সে দৃশ্য, শুক্ল মেঘের মতো মন ভরে উঠত। তোমার কেশের সুবাস বারে বারে এসে ছুঁয়ে যেত আমায়, আমিও অম্লজান হয়ে মিশে যেতাম তোমারই নিশ্বাসে। কিন্তু হায়! আমি যে মর্ত্যের মানুষ, ইচ্ছা থাকলেও ছুঁতে পারো না তুমি আমার সত্তা। তোমার সুরভি আমার নাসিকাতে এসে মেশে না, আর আমিও জীবনবায়ু হয়ে লীন হতে পারি না তোমায়। অলস দ্বিপ্রহরে, ক্লান্ত দেহ এলিয়ে, বসো না তুমি আমার শ্যামলিম ছায়ায়। আমি যে মর্ত্যের মানুষ, তাই তোমার আর আমার মাঝে বিস্তর ব্যবধান। যদি আমি সেই বৃক্ষ হতাম— যার পাতায় খেলে যেত তোমার আঙুলের বাতাস, যার ছায়ায় বসে তুমি হারিয়ে যেতে দুপুরের অলসতায়। তবে কোনো বন্ধন ছাড়াই, নির্ভার হয়ে আমি মিশে যেতাম তোমার প্রতিটি নিঃশ্বাসে। ২৪ শে জুন ২০২৫ সোহরাওয়ার্দী হল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

বাবা আমার পৃথিবী

সোহেল রানা © বাবা তুমি বটবৃক্ষ, ছায়া হয়ে থাকো, তোমার মায়ায় জড়ানো জীবন, আগলে রাখো। আঙুল ধরে শিখিয়েছো জীবনের পথচলা, তোমার হাসিতে যেন সকল দুঃখ ভোলা। বাবার হাতেই তো দেখি পৃথিবীর সুখ, তোমার আলোয় আলোকিত আমার এই বুক। ঝড় বৃষ্টিতে তুমিই তো ছিলে ঢাল, তোমার স্নেহেই কাটে আমার সুসময় কাল। তোমার ত্যাগে গড়া আমার এই জীবন, তোমার ছায়া যেন এক নিরাপদ ভুবন। বাবা তুমিই আমার পৃথিবী, আমার অহংকার, তোমার চরণেই পাই আমি শান্তি আর সম্মান। ১৫ই জুন ২০২৫ সোহরাওয়ার্দী হল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

তোমার একদিন আমার কথা মনে পড়বে

তোমার একদিন আমার কথা ভীষণ রকম মনে পড়বে, কোন এক পৌষের কুয়াশা ভেজা সন্ধ্যায় তোমার ইচ্ছা করবে আমার কনিষ্ঠ আঙুল ধরে হাঁটতে কিছু পথ। মনে পড়বে তোমার চৈত্রের কাঠফাটা রোদে, শ্রাবণের বৃষ্টি ভেজা বিকেলে। তোমার এক রাতে আমার সাথে মন খুলে কথা বলবার সাদ জাগবে ভিশন, খুব করে ইচ্ছা করবে তোমার, আমাকে তোমার বুকে জড়িয়ে শরতের রাতে দূরের ওই চাঁদ কে সাক্ষী রেখে আর একবার আমায় চুম্বন করতে। তোমার একবার ইচ্ছে করবে, তুমি সম্পূর্ণ আমাতে মিলিয়ে যেতে। একবার ভীষণরকম ইচ্ছা করবে, সিয়াম সাধনার মাসে স্রষ্টার নামে শপথ করে অনন্তকাল তুমি আমার পাশে থেকে যেতে। একবার ভীষণ রকম ইচ্ছা করবে, অগ্রহায়ণ মাসে হালকা শীতে আমাকে তোমার গায়ের নরম তুলতুলে কম্বল করে নিতে। মাঝে মাঝে তোমার আমাকে, তোমার গায়ের পোশাক বানাতে ইচ্ছা করবে, কখনো কখনো তোমার গায়ের পোশাক কে তুমি মনে করবে যেন এ তরতাজা আমি! কখনো কখনো ঠুমকো আঁচড়ে তোমার ইচ্ছা গুলো মরে যাবে, ফিনিক্স পাখির মত পুনরায় তোমার ইচ্ছা গুলো জন্ম নেবে! তোমার এই ইচ্ছাগুলোর জন্ম-মৃত্যুর খেলায় কখনো সশরীরে উপস্থিত থাকবো না আমি, শত চেষ্টা করলেও আমাদের আর যোগাযোগ হবে না কোনোদিন তবুও তোমার ভীষ...